আশুলিয়ার গ্যাসনির্ভর বেশ কয়েকটি কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। উৎপাদন সক্ষমতা ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার পাশাপাশি কিছু কারখানায় পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এর ফলে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার লোকসান হচ্ছে।
বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে ব্যয় বাড়ছে। কারখানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট অব্যাহত থাকলে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। ফ্যাশন গ্লোব গ্রুপের কারখানা এ আর ও ওয়েট প্রসেসিং লিমিটেড গতকাল সকালে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানাটির তিনটি সেকশনের সবগুলোই বন্ধ। কর্মকর্তারা জানান, গ্যাস সংকট শুরুর পর উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে। দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ হাজার পিস হলেও বর্তমানে ২০ হাজার পিস পর্যন্ত উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।
রিং শাইন টেক্সটাইল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিরুদ্ধ পিয়াল জানান, গ্যাসের চাপ অনিয়মিত থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে ৯০ টন উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও দুই টনও উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে, জামগড়ার লিটল স্টার স্পিনিং মিলের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম জানান, গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে এবং শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের জন্য লোকসান হলেও সুতা বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি সতর্ক করেছেন যে, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ৩০ শতাংশ জনবল কমানোর প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে, শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্যাস সংকটের কারণে আশুলিয়া অঞ্চলের কোনো কারখানা বন্ধ হওয়ার তথ্য তাদের কাছে নেই।